হ-বাংলা নিউজ: নবগঠিত গুম কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন জানিয়েছেন, অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঝ পথে কোনো তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে না।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) তিনি যুগান্তরকে বলেন, “এটি কোনো পুলিশি ব্যবস্থা নয়, যেখানে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য আগাম প্রকাশ করা হয়। তবে তদন্তের বিষয়বস্তু ও ফলাফল জানার অধিকার সবার আছে। তাই তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য একযোগে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।”
এ প্রসঙ্গে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট গুমের অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই কমিশনের কাছে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত গুমের ঘটনার অভিযোগ করতে পারবেন ভিকটিম, তাদের পরিবার বা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সোমবার দুপুরে গুলশান এভিনিউয়ের ৯৬ নম্বর বাড়িতে গঠিত গুম কমিশনের কার্যালয়ে গেলে দেখা যায়, পুরোনো বাড়িটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। বাড়ির সামনের খোলা স্থানে লোহার স্ট্যান্ডে ঝুলছে জাতীয় পতাকা। প্রধান ফটকের পাশে অস্ত্রধারী দুই পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন এবং জানান, কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না। তবে অভিযোগ নিয়ে আসা ব্যক্তিকে কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান, শনাক্তকরণ এবং গুমের পরিস্থিতি নির্ধারণে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব কমিশনের উপর রয়েছে। কমিশন গুমের ঘটনাগুলোর বিবরণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করার পাশাপাশি সুপারিশও করতে পারবে।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এই কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকারকর্মী নূর খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাবিলা ইদ্রিস ও মানবাধিকারকর্মী সাজ্জাদ হোসেন।
সোমবার প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে জানা যায়, সাবেক এক সেনা কর্মকর্তা তিনজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ দাখিল করেছেন, যাদের মধ্যে একজন সাবেক সেনাপ্রধানও রয়েছেন। অন্য অভিযুক্তদের মধ্যে আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের সাবেক প্রধান লে. জে আকবর হোসেন উল্লেখযোগ্য।
