হ-বাংলা নিউজ:
এবারের ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে শুধু ফেসবুকেই প্রায় চার কোটি মানুষ বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন, খেটে খাওয়া রিকশাচালক আজিজুর রহমানসহ বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুঠে গিয়েছেন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে। এতেই প্রমাণিত হয়, বঙ্গবন্ধু কত শক্তিশালী। গত ১৭ই আগস্ট ২০২৫ রবিবারে অনলাইন জুমে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে শোক দিবসের আলোচনা সভায় একথা উল্লেখ্ করেন নেতৃবৃন্দ।
যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডঃ নুরুন নবীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রানা হাসান মাহমুদ-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত শোক সভায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সভার শুরুতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট নিহত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ পরিবারের নিহত সকল সদস্য ও গত একবছর দখলদার ইউনুস বাহিনীর হাতে নিহত সকলের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতি ডঃ নুরুন নবী বলেন ২০২৪ সালের জুলাই ষড়যন্ত্রের আসল খলনায়ক যে ইউনুস ছিলেন তা এখন সকলের কাছে পরিষ্কার। শান্তির দূত ইউনুস আসলেই একজন লোভী, প্রতিহিংসাপরায়ন, অশান্তির দূত। বাংলাদেশকে আজ ধ্বংসের মহাস্তুপে পরিণত করেছে এই দখলদার ইউনুস। বাংলাদেশের স্বার্থকে আজ বিদেশিদের কাছে বিকিয়ে দিচ্ছে ক্ষমতা আর পয়সার বিনিময়ে। এই দখলদার ইউনুস এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের আসল ভয় বঙ্গবন্ধু শব্দে, ৩২ নম্বরে। তাই শোকদিবস পালনেও বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু একজন গরীব রিকশাচালক আজিজুর রহমান, যার বুকে অধম্য সাহস, দেখিয়ে দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ইউনুস গংরা ধমিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা যারা প্রবাসে আছি, আমরাও আমাদে সকল চেষ্টা অব্যাহত রাখবো এই অপশক্তিকে পরাজিত করে বাংলাদশে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।
সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছিলাম, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি আজ সেই স্বাধীন বাংলাদেশকে গ্রাস করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের এবং মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর সকল স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করা হয়েছে, আগুন দেওয়া হয়েছে আঁতুড়ঘর ৩২শে। কিন্তু এই ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি জানেনা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে, যা মুছে ফেলার ক্ষমতা কারো নেই। বাংলাদেশের খালে বিলে আজ লাশ আর লাশ, পথে প্রান্তরে আজ নারীরা হচ্ছে ধর্ষণের শিকার, চাঁদাবাজদের উপদ্রবে ব্যাবসায়ীরা অতিষ্ঠ, হাজার কোটি টাকা হচ্ছে বিদেশে পাচার, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিপূর্ণভাবে ধ্বংস, আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের করা হচ্ছে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ অকার্যকর, এইভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এখন বুঝতে পেরেছে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিল পুরাটাই ষড়যন্ত্র, তাদেরকে আন্দোলনের নামে ব্যবহার করা হয়েছে। বক্তারা বলেন জুলাই ষড়যন্ত্রের শিকার এই ছাত্র জনতা গণতন্ত্রকামী মানুষরাই এই অরাজগতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং এই ষড়যন্ত্রকারীদের পরাজিত করে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা ফিরে আনবে। অনলাইনে সংযুক্ত বক্তারা আরও বলেন, দখলদার ইউনুসের পরিসর দিন দিন ছোট হয়ে আসছে, অনেকেই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে জাতীয় সন্ত্রাসী দল (National Criminal Party) থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেছে। ইউনুস গংদের পালানোর পথ থাকবে না, মুক্তিকামী বাংলাদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সকল নেতৃবৃন্দ ইউনুস এবং তার গুন্ডাবাহিণী থেকে প্রতিঠি অপকর্মের হিসেব নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধু আদর্শে মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবো।
শোক দিবসের আলোচনা সভায় সংযুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা যথাক্রমে ডঃ বামন দাস বসু (বোস্টন), মুক্তিযোদ্ধা ডঃ মহসিন আলী (নিউইয়র্ক), ডঃ মোহাম্মেদ দেলোয়ার হোসেন (নিউইয়র্ক), অধ্যাপক সাহদাত হাসান (নিউইয়র্ক), সহসভাপতি যথাক্রমে রাফায়েত চৌধুরী (নিউইয়র্ক), সফেদা বসু বিন্ধু, (বোস্টন), নজরুল আলম (ক্যালিফোর্নিয়া), জাকারিয়া চৌধুরী (নিউইয়র্ক) ও সায়িদ মনোয়ার রিশাদ (টেক্সাস),বাংলাদেশ যুবলীগের সহসভাপতি মোঃ নূর আলম মিয়াঁ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকঃ স্বীকৃতি বড়ুয়া (নিউইয়র্ক) ও সাংগঠনিক সম্পাদক দস্তগির জাহাঙ্গীর (ওয়াশিংটন)। সভায় আরও সংযুক্ত ছিলেন মাহফুজুর রহমান (বোস্টন), উজ্জ্বল বড়ুয়া (বোস্টন), আরিফুল ইসলাম (পেন্সিলভেনিয়া), বশিরুল আতার (ক্যালিফোর্নিয়া), ফারজানা বেগম (ক্যালিফোর্নিয়া), রওশন আরা নিপা (নিউইয়র্ক), প্রমুখ।

