সাকিব আল হাসানের জন্য এক কঠিন সময়: নিষেধাজ্ঞার শিকার, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনিশ্চিত ভবিষ্যত

হ-বাংলা নিউজ: খারাপ সময়ে সব কিছুই খারাপ চলে, এবং এই মুহূর্তে সাকিব আল হাসান একেবারে ভালোভাবে এই কথা উপলব্ধি করতে পারছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেকবারই তিনি কঠিন সময়ে পড়েছেন, কিন্তু এতটা বাজে সময় কখনোই তার সামনে আসেনি।

রাজনৈতিক কারণে সাকিব বর্তমানে দেশে আসার সুযোগ পাচ্ছেন না, যার ফলে তিনি দেশের মাটিতে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচও খেলতে পারেননি। সাকিব যে দুই ফরম্যাটকে বিদায় জানাচ্ছেন, সেগুলোতে তার ফিরে আসার সম্ভাবনাও এখন অনিশ্চিত। বলা চলে, তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তবে, ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ছিল যেখানে তাকে আশা করা হচ্ছিল, কিন্তু এখানেও তিনি নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছেন।

গতকাল সাকিব জানতে পেরেছেন, তিনি ইংল্যান্ডে আর কোন ধরনের ক্রিকেটে বোলিং করতে পারবেন না। সারের হয়ে কাউন্টি ম্যাচে বোলিং করার সময় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) সাকিবের বোলিংয়ে ত্রুটি দেখে এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

সাকিব বরাবরই বলতেন, তার বোলিং একটি স্বাভাবিক ক্ষমতা, যেখানে উন্নতি তাকে নিজের চেষ্টায় হয়েছে। তবে সম্প্রতি ব্যাটিংয়ে তার প্রভাব কম হলেও, বোলিংয়ে তিনি সাফল্য পেয়েছেন। কিন্তু সেই বোলিংতেই এখন নিষেধাজ্ঞা এসেছে। যদি নতুন করে পরীক্ষা দিতে না পারেন, সাকিব আর ইংল্যান্ডে বোলিং করতে পারবেন না।

এখন প্রশ্ন উঠছে, সাকিব যদি দেশের হয়ে ওয়ানডে খেলার সুযোগ পান, বিপিএল কিংবা অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সুযোগ পান, সেখানে কি বোলিং করতে পারবেন তিনি? এই নিষেধাজ্ঞা কি আইসিসি বা অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি বা বোর্ডের জন্যও প্রযোজ্য হবে?

আইসিসির নীতিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কোনো জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন যদি একজন বোলারকে তাদের নিজস্ব নীতিমালার অধীনে ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিং নিষিদ্ধ করে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা স্বীকৃত পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে আইসিসি ওই নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গ্রহণ করবে। একইভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

তবে, আইসিসির অন্য এক নীতিমালায় বলা হয়েছে যে, বিসিবি সাকিবকে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিং করার অনুমতি দিতে পারে। এর মানে হলো, বিসিবি যদি চায়, তাহলে সাকিবকে বিপিএল বা দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে সাকিবের ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে তাকে দেশের মাটিতে খেলার সুযোগ পাবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এছাড়া, অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি বা ক্রিকেট বোর্ড ইসিবির নিষেধাজ্ঞা মানতে বাধ্য। এর ফলে, সাকিব হয়তো ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও অংশ নিতে পারবেন না।

নিয়ম অনুযায়ী, বোলিংয়ের সময় কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকা হওয়া উচিত নয়। সাকিবের কনুই অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি বাঁকানোর কারণে তাকে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে, তিনি যদি নতুন করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তাহলে এই নিষেধাজ্ঞা উঠে আসতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, সাকিব তার ক্যারিয়ারের গোধূলী লগ্নে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *