হ-বাংলা নিউজ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালানোর জন্য অনুমতি দিয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময়ে এতদিন বাইডেন প্রশাসন মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালানোর অনুমতি দেয়নি। তবে, নিজের ক্ষমতার শেষ পর্যায়ে এসে অবশেষে এই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স তাদের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার মিসাইল ব্যবহার করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে, হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই অনুমতির জন্য অনুরোধ করে আসছিলেন, যাতে তারা রুশ সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে অনেক দূরে গিয়ে হামলা চালাতে পারে। অবশেষে, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাস আগে বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে সেই অনুমতি দেয়।
এই ঘোষণার পরই রাশিয়া, কয়েক দিন আগে, উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে সেনা মোতায়েন শুরু করে, যা যুদ্ধের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে হামলার অনুমতি দেয়।
প্রথম হামলার জন্য এটির লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ATACMS রকেট, যা ৩০৬ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
তবে, মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালানোর মাধ্যমে যুদ্ধের গতিবিধি পরিবর্তন হবে না। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, এই হামলার মাধ্যমে ইউক্রেন শক্ত অবস্থান থেকে আলোচনা টেবিলে বসতে পারবে।
এদিকে, ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ক্ষমতায় আসার পর ইউক্রেনকে দেওয়া বাইডেন প্রশাসনের এই অনুমতি বাতিল করবেন কিনা, তা স্পষ্ট হয়নি। তবে ট্রাম্প নির্বাচন সাফল্যের আগে বলেছিলেন, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শীঘ্রই বন্ধ করবেন।
সূত্র: রয়টার্স
