হ-বাংলা নিউজ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ থাকবে। প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের পদমর্যাদা আগের মতোই থাকবে এবং ২৫ বছরের কম বয়সীরা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পাবেন না। একই সঙ্গে, অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে কোনো ধরনের আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। জরুরি অবস্থা ঘোষণার বৈধতা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শ নিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার সরকারের দায়িত্বের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করার বিধান রাখা হয়েছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর, উপদেষ্টা পরিষদ অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ অধ্যাদেশটি জারি করতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদনের পর বর্তমানে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। চূড়ান্ত হলে, এটি নিয়মানুযায়ী অধ্যাদেশ আকারে জারি হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়। তবে ২০১১ সালের ১০ মে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৩০ জুন সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
বর্তমানে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর, ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। তবে, পঞ্চদশ সংশোধনীর কারণে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা না থাকায়, অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সেজন্য ১৯ সেপ্টেম্বর, অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই অধ্যাদেশে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টাদের মতোই, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টাদের পদমর্যাদা এবং সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে উপদেষ্টাদের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হলেও, নতুন অধ্যাদেশে উপদেষ্টাদের সংখ্যা সীমিত করা হয়নি।
অধ্যাদেশের খসড়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সংক্রান্ত ধারায় বলা হয়েছে, “যে তারিখে প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, সেই তারিখ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করা না পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর থাকবে।” পূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ছিল ৯০ দিন, তবে এই নতুন নিয়মে মেয়াদ সীমাবদ্ধ নয়।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অস্থায়ী সরকার হিসেবে কাজ করবে এবং নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে, যাতে সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয়। এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত ও আদেশগুলো আইন অনুসারে বৈধভাবে কার্যকর হবে এবং এসব সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে কোনো আদালত প্রশ্ন তুলতে পারবে না।
অধ্যাদেশের খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হতে হলে কমপক্ষে ২৫ বছর বয়স হতে হবে। বয়সের সীমা না মেনে কেউ পদে নিয়োগ পেলে সেটি বৈধ হবে না। একইভাবে, কোনো বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ, দেউলিয়া ঘোষণা বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে ওই ব্যক্তি প্রধান উপদেষ্টা বা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাবেন না।
নতুন অধ্যাদেশের খসড়ায় রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “ইতিমধ্যে বিদ্যমান অন্যান্য আইনে যা বলা থাকুক না কেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে কাজ করবেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষেত্রেও প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া হবে।”
এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টারা মন্ত্রীর পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক এবং সুবিধা পাবেন, এবং তারা প্রেসিডেন্টের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগ করতে পারবেন।
