অর্থ পাচার: বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে

হ-বাংলা নিউজ: বাংলাদেশের জন্য অর্থ পাচার একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। পাচারের সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে, কিন্তু যদি সংস্কার কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ২০২৬ সালে তা ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক এসব কথা বলেন। সাবেক কূটনীতিকদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ফরমার অ্যাম্বাসেডর (আওফা)’ আয়োজিত এই সভার বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার উপায়’। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। আওফার সভাপতি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এএফএম গাউসূল আজম সরকার, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাহেদ আখতার, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাশফি বিনতে শামস এবং রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বিশ্বব্যাংক থেকে প্রকল্প অর্থায়নের পরিবর্তে বাজেট সহায়তা চাওয়ার কথা বলেন।

আবদুলায়ে সেক আরও বলেন, “বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের পোর্টফোলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শুরু থেকেই এই দেশকে গুরুত্ব দিয়ে আসছি। বর্তমানে বাংলাদেশ এক কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন, যার মধ্যে একটি বড় সমস্যা হলো দেশ থেকে অর্থ পাচার। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার জন্য আমাদের সাহায্য চেয়েছে এবং আমরা সেই সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা সহায়তার জন্য প্রস্তুত। তবে এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া, কারণ এর সঙ্গে আইনগত বিভিন্ন বিষয়ও জড়িত।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের পূর্বাভাস দিয়েছে। আমাদের মতে, ২০২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে। তবে বাংলাদেশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যদি এগুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ ছাড়াতে পারে।”

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬.৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *