দুর্নীতিবাজ বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন: হাইকোর্টের ১২ বিচারপতিকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত

হ-বাংলা নিউজ: শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে, হাইকোর্ট বিভাগের ১২ বিচারপতিকে বিচার কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার, ছাত্র সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা এই ঘোষণা দেন।

এদিকে, ১২ বিচারপতির নাম তিনি উল্লেখ করেননি। তাঁর ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা হাইকোর্ট এলাকা ত্যাগ করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেন, “আমরা রোববার বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করব, যেন আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মতোই বিচারপতিদের অবস্থান বুঝতে পারি!”

যখন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা যুগান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সুপ্রিমকোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষ হচ্ছে এবং ২০ অক্টোবর থেকে নিয়মিত বেঞ্চে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, “অতএব, আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, যেন জানি কোন ১২ জন বিচারপতি বেঞ্চে জায়গা পাচ্ছেন না। হাইকোর্টের গরম গরম খবরের জন্য আমাদের সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।”

এ দিন, আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিস্ট’ বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবিতে দুপুর ১১টা থেকে হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অন্যদিকে, ‘দলবাজ ও দুর্নীতিবাজ’ বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী সমাজ। সেইসঙ্গে, জাতীয় নাগরিক কমিটি-লিগ্যাল উইংও ফ্যাসিবাদের দোসর বিচারপতিদের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সব মিলিয়ে, সুপ্রিমকোর্টের প্রাঙ্গণ দিনভর মিছিল-মিটিংয়ে উত্তাল ছিল।

বুধবার বিকালে, সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহর মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে, আজিজ আহমদ ভূঞা বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সামনে এসে ঘোষণা দেন, “বিচারপতিদের অপসারণের জন্য আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা চলছে—কিন্তু দয়া করে আমাদের কিছুটা সময় দিন, কারণ আমরা সবাই জানি, জটিল বিষয়গুলোতে সময় লাগতে পারে!”

এদিকে, বিচারপতি অপসারণের রিভিউ শুনানি ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রসঙ্গে আজিজ আহমদ ভূঞা জানান, “বিচারপতিদের অপসারণের জন্য একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, তবে বর্তমানে দেশে এ বিষয়ে কোনো আইন নেই। বিগত সরকার সংসদের মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট সেটি বাতিল করে দিয়েছে। রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে এটি শুনানি হবে। শুনানির তালিকার এক নম্বর আইটেম হিসাবে রয়েছে, যেন সবাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারে!”

এভাবে, আমাদের দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেন একটি নাটকের কাহিনীর মতো, যেখানে প্রত্যেকের নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে—কিন্তু আমরা সবাই আশা করি, এই নাটকটি ন্যায়ের জয় নিয়ে শেষ হবে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *