হ-বাংলা নিউজ: বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের পুত্র ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ মন্তব্য করেছেন, পিলখানায় ৫৭ জন তুখোড় অফিসারকে হত্যার ঘটনা ছিল সেনাবাহিনী ও দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি চক্রান্ত।
তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডটি একটি বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। এই ঘটনায় ৫৭ জন দক্ষ আর্মি অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। এর ফলে কার লাভ, কার ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সম্প্রতি যুগান্তর মাল্টিমিডিয়ায় দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সোহেল তাজ এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান সাইদুল।
সোহেল তাজ জানান, পিলখানায় নিহত অফিসারদের মধ্যে তিনি অনেককেই ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। তখনকার বিডিআর-এর ডিজি জেনারেল শাকিলের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। শাকিলের আমন্ত্রণে তিনি পিলখানায় গিয়ে বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
এ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে সোহেল তাজ বলেন, তিনি ওই সময় আইজিকে ফোন করে পিলখানাকে র্যাব, পুলিশ ও আনসার দিয়ে ঘিরে রাখার পরামর্শ দেন। তবে আইজি তাকে জানান, মন্ত্রী মহোদয় সেখানে আছেন, আর তার মানে হল, তিনি নির্দেশ নিতে পারছেন না। এরপর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে বিষয়টি জানান, কিন্তু তিনি বলেন, এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন। তারপর সোহেল তাজ প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করলে তিনি তাকে বলেন, বিদেশে বসে এ বিষয়টি বেশি বোঝা যায় না।
সোহেল তাজ বলেন, এমন ঘটনায় প্রথমে আক্রান্ত স্থানটি ঘেরাও করা উচিত ছিল, যাতে সেখানে উপস্থিত ঘাতকরা বুঝতে পারে তাদের পালানোর কোন পথ নেই। যদি তারা জানত পালানোর কোন উপায় নেই, তাহলে হয়তো হত্যাযজ্ঞটি এভাবে ঘটত না।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে সোহেল তাজ বলেন, ১০ মার্চ দেশে ফিরে আসার পর ১১ মার্চ তাদের জানানো হয়, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত পরিচালনার দায়িত্বে একটি কো-অর্ডিনেটিং কমিটি থাকবে, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান। এরপরই ঘটনাটির সমস্ত ফাইল ও কার্যক্রম তাদের হাত থেকে চলে যায়। এছাড়া, বিডিআর সম্পর্কিত কোনো প্রশ্নও তাদের করা হয়নি, যা তাকে অদ্ভুত মনে হয়েছে, কারণ এটি হওয়ার কথা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, নিহত ৫৭ অফিসাররা ওয়ান-ইলেভেন সময়ে সক্রিয় ছিলেন এবং দেশের রিফর্মের জন্য চেষ্টা করেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন যারা সে সময় খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়টি অনেকেই ভালোভাবে নেননি।
সোহেল তাজ বলেন, তিনি চান যে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক, কিন্তু কো-অর্ডিনেট কমিটি গঠনের দুই মাস পর তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর কী হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না, কারণ পদত্যাগের পর তিনি আমেরিকাতে চলে গিয়েছিলেন।
পদত্যাগের বিষয়ে সোহেল তাজ বলেন, তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সরকার থেকে তাকে কোন সহযোগিতা দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রিত্ব ধরে রাখা অসম্ভব ছিল। যদি তিনি টাকা বানানোর জন্য মন্ত্রিত্বে থাকতেন, তবে প্রতিবাদ না করে সেই পদে থেকে যেতেন, কিছুই হতো না।
জাতীয় চার নেতা এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে শেখ হাসিনার রাজনীতি নিয়ে সোহেল তাজ বলেন, শেখ পরিবারের উদ্দেশ্য হচ্ছে আওয়ামী লীগের মধ্যে ঐক্য স্থাপন করা। জাতীয় চার নেতার পরিবার আওয়ামী লীগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই পরিবারের মাধ্যমে দলের ভিতর একটি শক্তিশালী ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। যদিও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা জানে, শেখ মুজিব এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কিছু বিভেদ ছিল, কিন্তু দুই গোষ্ঠী একত্র থাকলে দলের নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। এই কারণে শেখ হাসিনা জাতীয় চার নেতার পরিবারকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে সামনে নিয়ে এসেছেন। তবে, যাদের সঙ্গে নাসিম ভাই বা আশরাফ ভাই ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলেন, তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শেখ হাসিনা এই পরিবারগুলোকেই ব্যবহার করেছেন।
