ম্যানচেস্টার সিটি ৪-০ গোলে নিউক্যাসলকে পরাজিত, নিকো গনজালেসের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে উজ্জ্বল সিটি

হ-বাংলা নিউজ: ম্যানচেস্টার সিটি শনিবার রাতে নিউক্যাসলকে ৪-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছে। এই ম্যাচে সিটির নতুন সদস্য নিকো গনজালেস দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন, যা কোচ পেপ গার্দিওলার কাছে এটি প্রমাণ করেছে যে, ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি এর্নান্দেজের বিকল্প পাওয়া গেছে।

রদ্রি গত সেপ্টেম্বর মাসে হাঁটুর গুরুতর চোট পাওয়ার পর থেকে সিটি তার অভাব অনুভব করছে। গত চার মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা এবার শিরোপা দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে, বর্তমানে তারা চতুর্থ স্থানে রয়েছে এবং শীর্ষে থাকা লিভারপুল তাদের থেকে ১৩ পয়েন্ট এগিয়ে আছে।

নিকো গনজালেস জানুয়ারির দলবদলে পোর্তো থেকে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডে সিটিতে যোগ দেন। নিউক্যাসলের বিপক্ষে তার অভিষেক হয়েছিল এবং প্রথম ম্যাচেই তিনি তার দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের মাধ্যমে দলকে সাহায্য করেন। সিটি অনেকদিন পর এমন সাবলীল পারফর্ম্যান্স দেখায়।

গার্দিওলা দলের পারফর্ম্যান্সে নিকোর অবদানকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “নিকোর উপস্থিতি আমাদের অনেক সাহায্য করেছে। আমার মনে হচ্ছে, ক্লাব ভবিষ্যতের জন্য একজন অবিশ্বাস্য মানসিকতার খেলোয়াড় দলে নিয়েছে।”

নিকো গনজালেস বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন এবং ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। পরবর্তীতে পোর্তো হয়ে সিটি দলের সদস্য হন। গার্দিওলা বিশ্বাস করেন, বার্সেলোনার একাডেমিতে কাটানো সময় নিকোকে ফুটবলের মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে শেখার সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, “বার্সেলোনার একাডেমিতে থাকার সুবাদে সে শারীরিক ভঙ্গি, বল পাস দেওয়া, টেকনিক ইত্যাদি ভালোভাবে শিখেছে। পোর্তোতে সার্জিও কনসেইসাও তাকে আরও আক্রমণাত্মক এবং বুদ্ধিদীপ্ত খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলেছেন।”

গার্দিওলা গনজালেসের ব্যক্তিত্ব এবং নেতৃত্বগুণের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “সে মাত্র ২৩ বছর বয়সী, এক কথায়, ‘মিনি-রদ্রি’। তার কথাবার্তা, ব্যক্তিত্ব—এক মুহূর্তেই আমি দেখলাম, সে আর্লিং হালান্ডকে নির্দেশ দিচ্ছে, এটা করো, ওটা করো! যখন একজন নতুন খেলোয়াড় দলের সেরা তারকাদেরও নির্দেশ দিতে পারে, তখন বুঝতে হবে যে তার মধ্যে ভবিষ্যতের নেতৃত্বগুণ আছে।”

গার্দিওলা আরও বলেন, “আগামী ছয়-সাত বছর আমাদের দলে রদ্রি এবং নিকো থাকবে, যা আমাদের আরও ভারসাম্য এবং স্থিতিশীলতা দেবে—যা এই মৌসুমে আমরা মিস করেছি।”

গার্দিওলা নিকোর প্রশংসা করলেও, এই ম্যাচের আসল নায়ক ছিলেন ওমর মারমুশ। এই মিশরীয় ফরোয়ার্ড জানুয়ারিতে আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ৫৯ মিলিয়ন পাউন্ডে সিটিতে যোগ দেন এবং প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত একটি হ্যাটট্রিক করেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জেমস ম্যাকঅ্যাটি একটি গোল করে স্কোরলাইন ৪-০ করেন।

গার্দিওলা বলেন, “আমাদের এমন একজন খেলোয়াড় দরকার ছিল, যে পেছন থেকে দৌড়ানোর সুযোগ খোঁজে এবং তার গতি কাজে লাগায়। সাধারণত আমাদের খেলোয়াড়রা বল পেয়েই খেলতে থাকে, কিন্তু মারমুশ স্পেসে দৌড়াতে পছন্দ করে, যা আমাদের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।”

শেষে গার্দিওলা কিছুটা রসিকতা করেও বলেন, “আজকের খেলা দেখে মনে হচ্ছে, শুধু খেলোয়াড়রা নয়, ম্যানেজারও ভালো পারফর্ম করেছে!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *