হ-বাংলা নিউজ:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, এই সরকার সুশীলতার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। এই সরকার দুই হাজার মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় বসেছে, এবং সেই রক্তের সাথে কোনো আপসের সুযোগ নেই। সরকারের প্রতি তার আহ্বান, সুশীলতার ভাবধারা ত্যাগ করে স্বৈরাচারের সহযোগীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হোক। দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ষড়যন্ত্রকারীদের থেকে দেশকে রক্ষা করুন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান। হাসনাত আব্দুল্লাহ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর একের পর এক ষড়যন্ত্র তৈরি হয়েছে। প্রথমে জুডিশিয়াল ক্যু করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু ছাত্ররা মাঠে নেমে তা রুখে দেয়। যখন লীগ আনসার হয়ে ফিরে আসছিল, তখন ছাত্ররাই তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে নেমেছিল। এনসিটিবিতে বই না ছাপানোর মাধ্যমে সরকারকে বিপাকে ফেলার ষড়যন্ত্রও ছাত্ররা ঠেকিয়ে দেয়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যখন স্বৈরাচারী হাসিনার সার্ভিসে থাকা মিডিয়া, যেমন সময় টিভি, ক্যু রুখে দিতে ছাত্ররা এগিয়ে আসল, তখন চারদিকে শুরু হলো সুশীলদের আহাজারি। আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন অভিযোগ তৈরি করা হলো। বারবার বলেছি, আমরা কোনো সাংবাদিকের নামের লিস্ট তৈরি করিনি, তবুও বানোয়াট অভিযোগ তুলে মিডিয়া মাফিয়ারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করল।”
“যে সময় টিভি দীর্ঘ বছর ধরে বিএনপি, জামায়াতসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোর চরিত্রহনন করেছে, শহীদ আলিফকে হিন্দু ট্যাগ দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উসকানি দিয়েছে, জুলাই আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরেছে, হাসিনার ছাত্র হত্যাকে স্বাভাবিক করে দেখিয়েছে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করে তারেক জিয়াকে কালিমালিপ্ত করেছে, এমনকি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকেও অবমূল্যায়ন করেছে—আজ সেই মিডিয়া ও সুশীলদের কান্না শুরু হয়েছে। প্রতিবাদ করতে যাওয়া ছাত্ররা খারাপ, আর তাদের কুকীর্তি সমর্থন করা সুশীলরা ভালো, এটাই কি আজকের বাস্তবতা?”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আরও বলেন, “ছাত্ররা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে, প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা শেখ হাসিনার দোসরদের অপসারণ করে দেশপ্রেমিকদের দায়িত্ব দিতে। কিন্তু সুশীলতার মোড়কে সরকার সেটি না করার পরিণতি গতকাল (বুধবার) রাতে দেখা গেছে।”
তিনি বলেন, “আমরা শেখ হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছি, একটি নতুন বাংলাদেশের জন্য। প্রশাসন লীগ ও তাদের হুমকি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য নয়, বরং সরকারের কাছে অনুরোধ, এদের হাত থেকে প্রশাসন মুক্ত করুন। যদি তা না করেন, তবে গণভবন এবং আদালতের মতো সচিবালয়ও কেমন করে আওয়ামীমুক্ত হতে হয়, তা ছাত্র-জনতা ভালো করেই জানে।”
