হ-বাংলা নিউজ:
বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএএসএ) ঢাকা সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. আনোয়ার উল্লাহ্ এবং মহাসচিব মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সরকারের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনের গুরুত্বপূর্ণ ৪টি মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের যে ঘটনা ঘটেছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। বড় দিনের ছুটির পর রাতের বেলা জনমানবহীন অবস্থায় সংঘটিত এই ঘটনা বিশেষজ্ঞদের মতে সুপরিকল্পিত মনে হচ্ছে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতানুসারে, এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে শেখ হাসিনার মদদপুষ্ট স্বৈরাচারের দোসররা এখনও কর্মরত রয়েছে। অনেকের কাছে এখনও সচিবালয়ে প্রবেশের পাস থাকায় তারা অবৈধভাবে সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে।”
বিএএসএ আরও উল্লেখ করে, “স্বৈরাচারের দোসরদের সহযোগিতা ও প্রবেশের কারণে ঘটে থাকা এই ঘটনাটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা, তা খতিয়ে দেখা উচিত। সম্প্রতি সচিবালয় ঘিরে আনসার বিদ্রোহ এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা হয়েছে, যা সরকারের অস্থিতিশীলতার অপচেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সুতরাং, এই ঘটনার পেছনে দেশবিরোধী চক্রের হাত রয়েছে কিনা, তা গভীরভাবে তদন্ত করা উচিত। সচিবালয়কে স্বৈরাচারের দোসরমুক্ত করাও এখন জরুরি।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিষয়ে অপপ্রচার এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা ক্ষেত্রে এক বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যার মাধ্যমে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
বিএএসএ জানায়, “বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যরা দেশের তৃণমূল প্রশাসন থেকে সচিবালয় পর্যন্ত সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের পর, যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল, তখন থেকেই সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তারা মাঠ প্রশাসন ও সচিবালয়ে বিপ্লবী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে সরকারকে স্থিতিশীল রাখতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও জনমুখী রাষ্ট্র গড়তে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বিএএসএ আশা করছে, “অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং স্বৈরাচার দোসরমুক্ত সচিবালয়ের কার্যক্রম চালু রাখতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সফল হবে।”
