হ-বাংলা নিউজ:
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশ প্রকট হয়ে উঠেছে। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সাধারণ মানুষের মুখে একটিই প্রশ্ন—পরবর্তী সংসদ নির্বাচন কবে হবে?
বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। দলটি নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।’ তিনি উল্লেখ করেন, দেশবাসীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কখন তাদের ছেড়ে দেবেন। প্রথম দফা সংলাপে জানা গেছে, নির্বাচনের আয়োজনের আগে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো করা হবে।
এ লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে- যেমন নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে ১০টি কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনগুলোর প্রতিবেদন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংস্কারের জন্য কত সময় লাগবে এবং নির্বাচনের সময়সূচি কী হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো কিছু স্পষ্ট করেনি।
নির্বাচন নিয়ে যা বলেছিলেন সেনাপ্রধান
গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় বসার মাস দেড়েক পর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তার ওই সাক্ষাৎকারে দেশটির পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমার বিষয়ে প্রথমবারের মতো একটি ধারণা পাওয়া গিয়েছিল।
সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচন যাতে আগামী আঠারো মাসের মধ্যে হতে পারে, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন করতে ‘পরিস্থিতি যাই হোক না কেন’ তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি তার পাশে থাকব। যা-ই হোক না কেন। যাতে করে তিনি তার কর্মসূচি সম্পন্ন করতে পারেন।’
তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণ এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই হওয়া উচিত। তবে তিনি ধৈর্য ধারণের ওপরও জোর দেন।
সেনাপ্রধান বলছিলেন, ‘আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন তাহলে সেটাই একটা টাইম ফ্রেম (সময়সীমা) হওয়া উচিত, যার মধ্যে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে পারি।’
তিনি আরও জানান যে, প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধান প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাৎ করছেন এবং তাদের মধ্যে ‘অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক’ বিদ্যমান। দেশকে স্থিতিশীল করতে সরকারের প্রচেষ্টায় সামরিক বাহিনী সমর্থন দিচ্ছে।
সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমি নিশ্চিত আমরা একযোগে কাজ করলে ব্যর্থ হবার কোনো কারণ নেই। ’
সেনাপ্রধান এটাও জানান, তার নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এমন কিছু করবো না যা আমার বাহিনীর জন্য ক্ষতিকর হয়। আমি পেশাদার সৈনিক। আমি আর্মিকে পেশাদার রাখতে চাই।’
