কারাগার সংস্কার প্রয়োজন: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর বক্তব্য

হ-বাংলা নিউজ: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, দেশের কারাগারগুলোর অনিয়ম বন্ধ করতে হবে, যাতে অপরাধীরা সংশোধনের সুযোগ পায়। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বিদ্যমান জেল কোড এবং দণ্ডবিধিকে যুগোপযোগী করে কারাগারগুলো সংস্কার করতে হবে।

শনিবার “কারাগার সংস্কার: বাস্তবতা ও করণীয়” শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি। এই কর্মশালার আয়োজন করে আইন, আদালত, মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) এবং কারা অধিদপ্তর।

কর্মশালার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এলআরএফের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান জাবেদ। স্বাগত বক্তৃতা দেন সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশন। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক জাভেদ আখতার এবং নিউ এজ পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক শহীদুজ্জামান।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন কারা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। ‘জেল সংস্কার: সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইনজীবী শিশির মনির।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস। আলোচনায় অংশ নেন আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ, কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং সাবেক কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. শামসুল হায়দার সিদ্দিকী।

আদিলুর রহমান খান বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পায়নি। ভয় এবং ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতির কারণে মানবাধিকার নিয়ে রিপোর্ট করায় তাকে দুবার জেলে যেতে হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, কারাগারগুলোর সংস্কারের জন্য সকল পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন আইনকে যুগোপযোগী করার জন্য সুপারিশ করবে।

শিশির মনির তার মূল প্রস্তাবনায় বলেন, কারাগারের উদ্দেশ্য হচ্ছে অপরাধীদের সংশোধন করা। বর্তমানে কারাগার ব্যবস্থাটি সংশোধনমূলক তত্ত্বনির্ভর হলেও এটি ১৮৬০ সালের আইন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এই আইনগুলো ঔপনিবেশিক যুগ থেকে চলে আসছে এবং এর সংস্কার এখন জরুরি।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের কারাগার ব্যবস্থা বর্তমানে ১৩টি কেন্দ্রীয় এবং ৫৫টি জেলা কারাগার নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেল কোডে অন্তর্ভুক্ত নেই, এবং আইনগত কিছু সুবিধা কার্যকর হচ্ছে না।

শিশির মনির বলেন, বন্দিদের কনডেম সেলে রাখা মানসিক চাপের জন্য ক্ষতিকর। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া আইন দ্বারা পরিচালিত হতে হবে এবং বন্দির মানবাধিকারের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে জানান, পুরোনো আইন এবং জেল কোডের আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তির ব্যবহার ও মানবাধিকারের সুরক্ষায় কার্যক্রমকে সমন্বয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *