হ-বাংলা নিউজ: মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং তাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করছি।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এই আহ্বান জানান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, অবৈধ অর্থের প্রবাহ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে সম্পদের পাচার বন্ধ করা জরুরি। পাচার হওয়া সম্পদ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। আশা করছি, কর ফাঁকি রোধে আন্তর্জাতিক কর কনভেনশন শিগগিরই গৃহীত হবে।
বাংলাদেশের ‘মুনসুন অভ্যুত্থান’ আগামীতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুক্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে আমি বিশ্ব সম্প্রদায়কে আমাদের নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।
ড. ইউনূস বলেন, ছাত্র-জনতা দেশের জনগণকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। তারা একনায়কতন্ত্র, নিপীড়ন, বৈষম্য, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। তরুণদের এই সাহস ও দৃঢ়তা সবাইকে অভিভূত করেছে।
জাতিসংঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংঘটিত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীরও প্রশংসা করেন।
ড. ইউনূস বলেন, এখন একটি শক্তিশালী অর্থনীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
তিনি রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক সহায়তার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া, ফিলিস্তিনে গণহত্যা ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ড. ইউনূস বলেন, জুলাই-আগস্টের যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে আমি আজ এখানে উপস্থিত। আমাদের যুব সমাজের আন্দোলন ছিল বৈষম্যবিরোধী, যা পরে গণআন্দোলনে পরিণত হয়। তিনি বলেন, এই আন্দোলন রাজনৈতিক অধিকার ও উন্নয়নের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের একতা সৃষ্টি করেছে।
ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ জনগণের মুক্তভাবে কথা বলার, ভয়-ভীতি ছাড়া সমাবেশ করার এবং তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সমতা ও সমৃদ্ধির জন্য সমর্থন আরও গভীরতর হয়।
ড. ইউনূস শান্তি রক্ষা ও সংঘাত মোকাবিলাকে জনগণের সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি কার্বনমুক্ত পৃথিবী গড়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সারা বিশ্বকে ‘তিন-শূন্য’ ধারণা বিবেচনা করতে হবে, যার মাধ্যমে আমরা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ অর্জন করতে পারি।
ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গাজার জনগণের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী সবাইকে দায়বদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ অনতিবিলম্বে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়।
