প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা যেভাবে ফ্যাশন ও স্টাইলে নজর কেড়েছেন

হ-বাংলা নিউজ: পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা কে? পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার বাবা থাকসিন সিনাওয়াত্রা থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং ধনকুবের হিসেবে পরিচিত। পেতংতার্ন তাঁর কনিষ্ঠ কন্যা এবং থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর ব্যাপারে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত থাকসিন সিনাওয়াত্রা থাইল্যান্ডে ক্ষমতায় ছিলেন। পেতংতার্নের ফুফু ইংলাক সিনাওয়াত্রাও ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং থাইল্যান্ডের প্রথম নারী সরকারপ্রধান ছিলেন। থাকসিনের আরেক বোনের স্বামী সোমচাই ইয়োংসাওয়াতও এক সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

পেতংতার্নের পরিবার ব্যবসায়ী ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান রাখে। সিনাওয়াত্রা পরিবারের আদিনিবাস দক্ষিণ চীনের ক্যান্টনে। থাকসিনের দাদা সেংসায়েখু চীন থেকে থাইল্যান্ডে এসে বসতি স্থাপন করেন ১৮৬০–এর দশকে।

পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা শুধু একজন রাজনীতিবিদই নন, তিনি একজন পরিচিত ফ্যাশনিস্তা। তাঁর পোশাকের মধ্যে থাই ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় প্রতিফলিত হয়। টেইলর্ড স্যুট তাঁর প্রিয় পোশাক এবং তাঁর ওয়ার্ডরোবের বড় অংশজুড়ে রয়েছে ক্লাসিক নেভি স্যুট। ঐতিহ্যবাহী থাই পোশাক ‘চুত থাই’ এবং ‘নাগা’-র আধুনিক সংস্করণেও দেখা যায় তাঁকে।

পেতংতার্নের স্টাইলের ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হল পোশাকের সঙ্গে ব্যবহৃত বিভিন্ন অনুষঙ্গ। তিনি স্টাইলিশ ঘড়ি, ব্রেসলেট, সোনালী ও হীরার গয়না পরতে ভালোবাসেন। কানের দুল হিসেবে গোল রিং তাঁর পছন্দের।

পেতংতার্নের স্বামী পিতাকা সুকসাওয়াত একজন পেশাদার বৈমানিক হিসেবে শুরু করেন এবং এখন সিনাওয়াত্রা পরিবারের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ২০২১ সালে তাঁদের কোলজুড়ে আসে মেয়ে থিতারা সুকসাওয়াত এবং ২০২৩ সালে পুত্র ফ্রুত্তাসিন সুকসাওয়াত জন্মগ্রহণ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পরিবার ও সন্তানদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর ছবি নিয়মিত শেয়ার করেন। দুই কন্যার সঙ্গে সুপারশপে শপিং বা খেলাধুলা করার মুহূর্তগুলি শেয়ার করে থাকেন। পেতংতার্নের জীবনযাপন থাই তরুণদের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

পেতংতার্নের শিক্ষাজীবন সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুল থেকে শুরু। পরে তিনি ব্যাংককের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও নৃবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে যুক্তরাজ্যে ইউনিভার্সিটি অব সারে থেকে হোটেল ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

পেতংতার্নের পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ‘এসসি করপোরেশন’-এর অধিকাংশ শেয়ার তাঁর কাছে, এবং স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ‘থাইকম’-এর একজন পরিচালক। ২০২২ সাল পর্যন্ত তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২১ সালে ফিউ থাই পার্টির মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন পেতংতার্ন। প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল ব্যাংককে গণপরিবহনের খরচ কমানো, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং দৈনিক ন্যূনতম মজুরি দ্বিগুণ করা। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায়, তিনি ফিউ থাই পার্টির ‘কোর মেম্বার’ হিসেবে নির্বাচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *