খায়রুজ্জামান মামুনঃ প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তাল জলরাশি এবং তার থেকে ধেয়ে আশা সৈকতে পাগলা হাওয়ায় অবারিত নীল বিশাল আকাশে উড়ছে রঙ বেরঙের শত শত ঘুড়ি। এ যেন এক মহাকাব্যিক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার সিটি অব লং বীচের গ্রানাডা সমুদ্র সৈকতে।

হা, ঠিকই ধরেছেন! বাঙালির চিরায়ত ঘুড়ি উৎসবের দৃশ্যের কথা বলছি। তবে এটি বাংলাদেশের কোন ঘুড়ি উৎসবের দৃশ্য নয় অবশ্যই। ক্যালিফোর্নিয়ার লংবিচ শহরের ঐতিহ্যবাহী ১৩তম ঘুড়ি উৎসবের দৃশ্য ছিল এটি। স্থানীয় প্রবাসী কিছু শৌখিন বাসিন্দার স্বতঃস্ফূর্ত প্রচেষ্টায় গত তের বছর যাবৎ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই ঘুড়ি উৎসব। সুদীর্ঘ এই সফল আয়োজনের ফলে ইতিমধ্যে এটি আন্তর্জাতিক রুপ লাভ করেছে। আমেরিকায় বসবাসরত বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর লোকজনের অংশগ্রহণে লংবীচ কাইট ফেস্টিভ্যাল প্রতিবছর একটি উৎসব মুখর আয়োজনে পরিণত হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে।

লংবীচ কাইট ফেস্টিভ্যালের আয়োজক প্যাসিফিক কাইট ক্লাব ক্যালিফোর্নিয়া। যা প্রবাসী বাংলাদেশীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লংবীচ কাইট ফেস্টিভ্যালের আয়োজন ছিল বিনোদনে ভরপুর। মেলায় আগত অতিথিরা বর্ণিল আয়োজনে সমৃদ্ধ দিনটি উপভোগ করেন বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে। ঘুড়ি উড়ানো, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন রকমের খেলাধুলা, মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যান্ড সংগীত বাহারি রকমের খাবারের পরশা কি ছিলনা এই আয়োজনে?

উল্লেখ্য, ছেলে মেয়েদের স্কুল ব্যাগ বিনামূল্যে বিতরণ, এমনকি পাঁচ শতাধিক ঘুড়িও বিনামূল্যে অতিথিদের মাঝে বিতরণ করা হয়। ঘুড়ি উৎসব উপলক্ষে আয়োজক সংগঠন একটি বিশেষ ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে। এবছরের বিশেষ ম্যাগাজিন টি লংবীচ কাইট ফেস্টিভ্যালের সহ প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ওমর হাসান মামুনের নামে উৎসর্গ করেন।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লংবীচ কাইট ফেস্টিভ্যালকে ঘিরে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মোধ্যে যেন উৎসবের আমেজ নিয়ে এসেছিল। লক্ষণীয় বিষয় হলো, প্রতিবছরই এই লং বিচ কাইট ফেস্টিভ্যাল যেন তার নিজ স্বকীয়তা, বিস্তৃতি এবং স্বতঃস্ফূর্ততায় নিজেকেই অতিক্রম করে যাচ্ছে আয়োজকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।

আয়োজক সংগঠন প্যাসিফিক কাইট ক্লাবের সভাপতি ও লং বীচ কাইট ফেস্টিভ্যালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জনাব সাইদ আবেদ নিপু তার এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, ঐতিহ্যবাহী লংবীচ কাইট ফেষ্টিভ্যাল এর সাফল্য ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ সম্মান নিয়ে এসেছে।

আমেরিকায় বসবাসরত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করে উৎসবটিকে এখন বহুমাত্রিক সংস্কৃতির ধারক বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং এর নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশীরা। লংবীচ কাইট ফেস্টিভ্যালের আরেক সহ- প্রতিষ্ঠাতা জনাব ইশতিয়াক চিশতী তার প্রতিক্রিয়ায় আশা প্রকাশ করেন আগামীতে লংবীচ কাইট ফেস্টিভ্যাল অতীতের সব সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাবে এবং সংযোজন হবে আরো নতুন বহুমাত্রিক আয়োজন।

এবারের কাইট ফেস্টিভ্যাল কমিটির যার নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মোধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, জনাব জিয়া ইসলাম( চেয়ারম্যান), জনাব মিখাইল খান(সভাপতি), নায়না হাসান(আহবায়ক), জনাব নিজাম ইসলাম( কোষাধ্যক্ষ) সহ আরো একদল মেধাবী ও নবীন প্রবীণ নেতৃবৃন্দ। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ক্যালিফোর্নিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশীদের মোধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ দুই উপস্থাপিকা সাজিয়া হক মিমি এবং ফারহানা আলম।

