যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রাধিকার, সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার। গত রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, আলেকজান্দ্রিয়ার ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ক্যাম্পাসে এই আয়োজন করে ইউএস-বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কাউন্সিল (ইউবিএসি)।
সংগঠনের চেয়ারম্যান, কবি ও লেখক সামছুদ্দীন মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং হাসান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ থেকে আগত আন্তর্জাতিক নীতি বিশ্লেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ আমীর মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রয়েছে বিশাল দক্ষ জনশক্তি এবং বর্তমানে একটি নির্বাচিত স্থিতিশীল সরকার। কিছু অবকাঠামোগত ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন একটি পারফেক্ট গন্তব্য।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে বিুভিন্ন সমস্যার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল, প্রকৃত উন্নয়ন বলতে কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া খুব কমই উন্নয়নই হয়েছে। এ অবস্থায় কেবল সরকার নয়, একটি সুশীল সমাজ, দক্ষ জনগোষ্ঠী সহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ একযোগে কাজ করতে হবে।
ভার্জিনিয়া স্টেট সিনেটর সাদ্দাম আজলান সেলিম তাঁর জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে — এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি আগামী আগস্ট প্রাইমারী নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশী প্রার্থী হিসাবে ইউএস কংগ্রেসে প্রতিদ্বন্ধিতা করার যোষনা দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন টেক্সাস থেকে আগত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ফেডারেশন অব ইউএসএ-র সভাপতি রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিনিয়োগে আগ্রহী। কিন্তু তাদের জন্য স্পেস তৈরী করে দিতে হবে। লাল ফিতার দৌরাত্ব সহ বিভিন্ন সমস্যা গুলি সমাধান করতে হবে।
কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির ন্যানোটেকনোলজি সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ডঃ জামাল উদ্দীন বাংলাদের সব সম্ভাবনার দেশ। তিনি ন্যানো টেকলোজীতে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা দেখতে পান্। এর মধ্যে তিনি অনেকগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমওইউ সাইন ও করেছেন।
জন্স হপকিন্স বিশ্বদ্যিালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডঃ আহমাদ নেওয়াজ খান সেলাল বলেন, চিকিঃসা খাতে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে। মেধার প্রাচার হচ্ছে। মেধাবীদের বাংলাদেশে ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ডঃ নজরুল ইসলাম, মেজর (অবঃ) মনজুরুল হক, ডঃ আনোয়ার করিম, রফিকুল হক, শামীম সেলিমুদ্দীন, স্যাম রিয়া, মিস্টি সরকার, খালেদ সাইফুল্লাহ সহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠানের শেষে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ দিয়ে বৈশাখী উদযাপন করা হয়, যা অনুষ্ঠানে এক বিশেষ আনন্দময় মাত্রা যোগ করে।
