ফয়ছল হোসেন চৌধুরী এমবিই এমএসপি কেবল একজন সফল রাজনীতিবিদ নন, বরং তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের প্রতীক। বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বদরদী গ্রাম থেকে শুরু করে স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য পদ পর্যন্ত তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রা দৃঢ় সংকল্প, মানবসেবা এবং নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও অনুপ্রেরণা: তাঁর সফলতার ভিত্তি রচিত হয়েছে তাঁর পারিবারিকভাবে প্রাপ্ত সেবার মানসিকতা থেকে। পিতা আলহাজ গোলাম রাব্বানী চৌধুরী এমবিই এবং মামা ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি জনসেবাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও তিনি যেভাবে নিজের শিক্ষাজীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয়।
সাফল্য ও অবদান: ১. রাজনৈতিক নেতৃত্ব: স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য (MSP) হিসেবে তিনি লোদিয়ান অঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা (NHS), আবাসন সমস্যা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ২. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন: স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি তিনি বহুজাতিক সমাজে সমতা, বৈচিত্র্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ রানি কর্তৃক ‘এমবিই’ (MBE) খেতাবে ভূষিত হওয়া তাঁর কর্মনিষ্ঠার এক অনন্য স্বীকৃতি। ৩. উদার মানবসেবা: শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আর্তমানবতার সেবায় তাঁর অবদান—বিশেষ করে এতিমখানা ও মাদ্রাসা স্থাপনে তাঁর পরিবারের অগ্রণী ভূমিকা—তাঁকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে।
ফয়ছল হোসেন চৌধুরী তাঁর কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, শেকড়কে ভুলে না গিয়েও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। স্কটল্যান্ড এবং বাংলাদেশের মধ্যে এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন হিসেবে তিনি আজীবন কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাদিহা জান্নাত চৌধুরীর স্কটিশ ইয়ুথ পার্লামেন্টে অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, নেতৃত্বের এই উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্মের মাঝেও প্রবহমান। তিনি কেবল স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নন, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস।
