কুখ্যাত এপিস্টন ফাইলে জোহরান মামদানীর মায়ের নাম, সাকসেস পার্টির নেপথ্যে কি?

হ-বাংলা নিউজ: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লক্ষের বেশি নতুন নথি প্রকাশ করেছে। সেই নথিতেই উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার-এর নাম। তিনি বর্তমানে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি-র মা হিসেবেও পরিচিত।খবর আইবিএননিউজ।

নথিতে যে ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, তা ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিষয়টি মূলত ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মীরা নায়ার পরিচালিত ছবি ‘অ্যামেলিয়া’-র সাফল্য উপলক্ষে আয়োজিত একটি পার্টিকে কেন্দ্র করে।

২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যামেলিয়া’ ছবিটি তৈরি হয়েছিল বিখ্যাত নারী পাইলট অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট-এর জীবন অবলম্বনে। ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করেন হিলারি সোয়াঙ্ক, আর তাঁর স্বামীর চরিত্রে ছিলেন রিচার্ড গিয়ার। ছবির মুক্তির পর একটি সাকসেস পার্টির আয়োজন করা হয়, যার আয়োজক ছিলেন ঘিনসেল ম্যাক্সওয়েল—যিনি পরে আন্তর্জাতিক যৌন পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তিনি ছিলেন জেফ্রি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যবস্থাপক।

এপস্টিন ফাইল অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২১ অক্টোবর নিউ ইয়র্কে নিজের টাউনহাউসে এই পার্টির আয়োজন করেন ঘিনসেল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মীরা নায়ার নিজেও। জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ পেগি সিগাল সেই পার্টি থেকে বেরিয়ে এপস্টিনকে পাঠানো একটি ইমেলে লেখেন, তিনি সদ্য ঘিনসেলের টাউনহাউসে আয়োজিত ছবির আফটার পার্টি থেকে ফিরছেন।

পেগি সিগালের দাবি অনুযায়ী, ওই পার্টিতে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং পরিচালক মীরা নায়ার। তবে ছবির দুই প্রধান অভিনেতা হিলারি সোয়াঙ্ক ও রিচার্ড গিয়ারকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁরা অনুষ্ঠানে যাননি বলে জানান পেগি।

ইমেলে পেগি আরও উল্লেখ করেন, ছবিটি তাঁর ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা ভালো লাগেনি এবং দর্শকমহলেও তেমন সাড়া ফেলেনি—যদিও নারীদের মধ্যে ছবিটি বেশ প্রশংসা পেয়েছিল।
উল্লেখ্য, ওডিশার রাউরকেল্লায় জন্ম নেওয়া মীরা নায়ার পরবর্তীকালে আমেরিকায় স্থায়ী হন এবং বর্তমানে নিউ ইয়র্কেই বসবাস করেন। ‘সালাম বম্বে’, ‘মনসুন ওয়েডিং’, ‘দ্য নেমসেক’-এর মতো একাধিক আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ছবির নির্মাতা তিনি। কান চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন ক্যামেরা এবং ভেনিসে গোল্ডেন লায়ন জিতে ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া প্রথম মহিলা পরিচালকও মীরা।
শুক্রবার প্রকাশিত এপস্টিন সংক্রান্ত এই বিপুল নথিতে রয়েছে প্রায় ২,০০০ ভিডিও এবং ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। এর আগেও প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিল ক্লিন্টনের নাম উঠে এসেছিল। নতুন নথিতে আবারও ট্রাম্প ও ইজ়রায়েলের সম্পর্ক ঘিরে একাধিক বিতর্কিত তথ্য সামনে এসেছে, যা আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছেন, তাঁর যৌন অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। ২০০৮ সালে এপস্টিনের বিরুদ্ধে নাবালিকা ধর্ষণ ও পাচারের অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৯ সালের অগস্টে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এক মাসের মধ্যেই জেলে তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *