হ-বাংলা নিউজ:
সরকার নতুন করে অনেক পণ্যে ভ্যাট বাড়ানোর পর, এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে ওষুধের দামেও। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে যে, আবারও কি ওষুধের দাম বাড়বে? এই পরিস্থিতিতে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম বাড়তে না দেয়ার লক্ষ্যে সরকার তার তালিকা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ওষুধ শিল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। এতে অংশগ্রহণ করেন ইনসেপ্টা ও ডল্টো ফার্মাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, ডাব্লিউএইচও’র তালিকা অনুসরণ করে একটি সঠিক ওষুধের তালিকা তৈরি করা উচিত। এতে করে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম কমানো সম্ভব হবে। সরকারের এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) এর মাধ্যমে এ বিষয়ে বড় ভূমিকা রাখা যেতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা গেলে বাজারের ওপর এর প্রভাব পড়বে।
অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, “এক সময় বাংলাদেশে ৮০ শতাংশ ওষুধ আমদানি হতো, এখন আমরা ১৫০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করি। তবে দেশীয় রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। আমরা ১৯৯৮ সালে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের একটি তালিকা তৈরি করেছিলাম, সেটি হালনাগাদ করতে হবে।”
কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, “আমরা নিয়ম তৈরি করি কিন্তু তা পালন করি না। ১৯৯৮ সালে আইন হওয়া সত্ত্বেও ২০২৩ সালে নতুন করে কসমেটিকস ওষুধের সঙ্গে রাখার আইন পাশ করা হয়েছে।” তারা উল্লেখ করেন, ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়া একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান আবদুল মুক্তাদির বলেন, “দেশে ওষুধের বাজার বর্তমানে ৩০ হাজার কোটি টাকা। আমরা চাই মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ পাক, তবে এজন্য নীতিনির্ধারকদের সঠিক তথ্য জানতে হবে। আমরা দাম বাড়াতে চাই না।”
ক্যানসার সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তাফা বলেন, “সরকারি হাসপাতালে ক্যানসার চিকিৎসা দিতে হলে অত্যাবশ্যকীয় ২৪টি ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সংকট কমানো যেতে পারে।”
এসময় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, “আমরা ব্যবসা করব, লাভও করব, তবে মানুষের স্বার্থকে প্রথমে গুরুত্ব দিতে হবে। ইডিসিএলকে শক্তিশালী করার জন্য সবার পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।”
