হাসনাত আবদুল্লাহকে গ্রেফতার করার খবরটি ভুয়া, জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকার

হ-বাংলা নিউজ:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহকে সেনাবাহিনী গ্রেফতার করেছে বলে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ‘খবর’ ছড়ানো হয়। তবে, এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে স্বাধীন ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা ‘রিউমর স্ক্যানার’।

২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) একটি ফেসবুক আইডি থেকে দাবি করা হয়, হাসনাত আবদুল্লাহকে সন্ধ্যা ৬টায় গ্রেফতার করে ঢাকার সেনানিবাসে নিয়ে গিয়ে ৫ ঘণ্টা পর মুক্তি দেওয়া হয়। সেখানে আরও দাবি করা হয় যে, ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে চারজন উপদেষ্টা এবং ঢাবির তিন জামায়াতপন্থী শিক্ষক সেনাপ্রধানের কাছে গিয়ে হাসনাতের মুক্তির জন্য আবেদন করে তাঁকে মুক্ত করেন।

এই দাবির পক্ষে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের আদলে ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হলেও, রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায় যে, হাসনাত ২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন এবং সেখানে বক্তৃতা দেন। তিনি সেই দিন সকালে কুমিল্লার স্থানীয় এক বিদায়ী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সারাদিন কুমিল্লাতেই ছিলেন।

ফ্যাক্ট চেকাররা আরও জানান, ওই ফেসবুক পোস্টে একটি ব্লগপোস্টের লিংক ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে হাসনাতের গ্রেফতার হওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে ওই ব্লগস্পটটি একটি ভুঁইফোঁড় সাইট বলে শনাক্ত হয়েছে। সেখানে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, হাসনাতকে মোহাম্মদপুরে একটি বাসায় বৈঠকের সময় গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি করা হয়, যা সত্য নয়।

রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে, কুমিল্লার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে ২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কুমিল্লার কাগজের ইউটিউব চ্যানেলে হাসনাতের বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে যে, এমন কোনো গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেনি।

ফ্যাক্ট চেকাররা আরও জানিয়েছেন, দেশ টিভির ফেসবুক পেজে ওই দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি, তবে ফেসবুকে একটি পোস্টে ‘হাসনাত আবদুল্লাহসহ তিনজনের ফেসবুক আইডি নষ্ট’ দাবি করা হয়েছে, যা একেবারেই ভুল ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *