হ-বাংলা নিউজ: মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ নারী ও শিশু নির্যাতনমুক্ত একটি দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে, যা বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউন হলে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ১৬ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নারী-কন্যার সুরক্ষা করি, সহিংসতা মুক্ত বিশ্ব গড়ি।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গউইন লুইস এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি।
বিশেষ অতিথি মাইকেল মিলার আইনি কাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আমরা ২০০৯ সালের উচ্চ আদালতের নির্দেশনাকে স্বীকার করি, তবে বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, খসড়া যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইনটি গৃহীত ও বাস্তবায়ন করা এবং ২০১০ সালের পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা জরুরি।”
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গউইন লুইস বলেন, “লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ১৬ দিনের এই কর্মসূচির সময়টিকে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের প্রভাবক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। সেই পদক্ষেপগুলোর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে, আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করতে হবে এবং সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন, ২০১০ সংশোধন এবং কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এছাড়া, বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কেয়া খান, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক তানিয়া খান, যুগ্ম সচিব ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এবারই প্রথম তৃণমূল পর্যায়ে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে নজরদারি শুরু করতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা, ডেভেলপমেন্ট পার্টনার, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন, সামাজিক কর্মী, যুব ফোরাম, উদীয়মান ইনফ্লুয়েন্সার, শিক্ষার্থী ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণমূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।”
