গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তসংলগ্ন হুরন হ্রদের ওপরে আরেকটি রহস্যময় বস্তু উড়তে দেখা যায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্দেশে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে ওই বস্তুটিও ধ্বংস করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আকাশে ধ্বংস করা রহস্যজনক এসব বস্তু আসলে কী ছিল কিংবা এগুলো কোথা থেকে এসেছে, তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি দুই দেশের সরকার।এর আগে বেলুনকাণ্ড নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দেয়। ৪ ফেব্রুয়ারি এফ-২২ যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উড়তে থাকা চীনা গোয়েন্দা বেলুন ধ্বংস করা হয়। বেলুনটির ধ্বংসাবশেষ আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের জলসীমায় পড়ে।যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, চীনা গোয়েন্দা বেলুনটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনার ওপর দিয়ে উড়ে নজরদারি করছিল। এতে একাধিক অ্যানটেনা ছিল। ছিল সৌরপ্যানেল। এই প্যানেল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সক্ষম একাধিক সেন্সর চালানোর ক্ষমতা রাখে।পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, চীনা বেলুনটি ৪০টির বেশি দেশের ওপর দিয়ে উড়ে এসেছে। প্রতিটি দেশের প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও লাতিন আমেরিকার আকাশেও চীনা বেলুন শনাক্ত হয়েছে।বেলুনকাণ্ডের জেরে বেইজিং সফর স্থগিত করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। তিনি বলেন, চীনের এমন কাজ যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কাজ। তবে চীন বলেছে, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য বেলুনটি আকাশে ওড়ানো হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট পথে না গিয়ে বেলুনটি ভুল করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেলুনটি চলে যাওয়ার ঘটনার জন্য বেইজিং অনুতপ্ত।পরবর্তীকালে চীনা বেলুনটি ধ্বংস করায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
