আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ডিসি একুশে এলায়েন্সের বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান— বাহান্নগাথা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ডিসি একুশে এলায়েন্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “বাহান্নগাথা”। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার ২৭টি সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। পবিত্র রমজান মাসের কারণে এ বছর ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে গতকাল ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের ডিসি একুশে এলায়েন্সের ২৭টি সংগঠন হলো- আবিয়া, বাকোডিসি, বেন্ড, বাই, বাফি, বাইটপো, বেস্ট, বুয়েটারিয়ান ক্যাপিটল রিজন, ডুয়াফি, ধ্রুপদ, একাত্তর ফাউন্ডেশন, ফসল, ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি, ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি ডিএমভি, গ্লোবাল ব্রিজ ফাউন্ডেশন, ইছামতি, জুয়াডিসি, জেবি ফাউন্ডেশন, লাভ শেয়ার বিডি, মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি, ওরা এগারোজন, রকস্ট্রাটা ওয়ান, স্বদেশ, স্বাধীন বাংলাদেশ, শান্তি, সমস্বার, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন।  

এবারের আয়োজক সংগঠন ছিল স্বদেশ। সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন শরাফত হোসেন বাবু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ সালাউদ্দিন আহমেদ, কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান এবং প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা। এছাড়াও মার্কিন সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার ও কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ারের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. ফয়সাল কাদের ও সাদিয়া ইসলাম। সাংস্কৃতিক পর্বে রোজমেরি মেরি, শিল্পী গ্লোরিয়া এবং পরমা স্যানালের গ্রুপের নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

স্যাম রিয়ার পরিচালনায় বিশেষ শ্রুতিনাট্য “ফাগুনের ভাষা”-এ অংশ নেন আনিকা হোসাইন, আনিশা হোসাইন, আরোশী হোসাইন, সুদীতি সরদার ও উদিতা সরদার।

ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান রোকেয়া হায়দারের পরিচালনায় আয়োজিত কবিতা পাঠের আসরে অংশ নেন ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান ইকবাল বাহার চৌধুরী, অদিতি সাদিয়া রহমান, কবি সামছুদ্দীন মাহমুদ, হুমায়রা হায়দার ও বিউটি করিম।

হিরন চৌধুরী, কিমেন্ট গোমেজ ও আবু রুমীর পরিচালনায় প্রায় ৫০ জন কোরাস শিল্পী একসঙ্গে সংগীত পরিবেশন করে মাতৃভাষার প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন। বাদ্যযন্ত্রে সহায়তা করেন উজ্জল বড়ুয়া, শামীম হাসান শুভ্র,জামিল খান, শিশির ও প্রান্তিক।

এরপর নিউইয়র্ক থেকে আগত রোজি আজাদ ও নীলিমা শশী সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।

বাহান্ন গাঁথা- নামের একটি স্মারক সংকলন ও বের হয়। এটির সম্পাদনায় ছিলেন- ডঃ আবদুস সাত্তার- সহযোগিতায় শরাফত হোসেন বাবু ও সামছুদ্দীন মাহমুদ।

একুশের শহীদ মিনার এর দায়িত্বে ছিলেন শোয়েব রহমান। সহযোগিতায় সামছুদ্দীন মাহমুদ ও প্রদীপ ঘোষ।

অনুষ্ঠানে ২০১০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় সকল কোঅর্ডিনেটর- ইনারা ইসলাম(২০১০), ডঃ শোয়েব চৌধুরী(২০১১,২০১২,২০১৪) ডঃ আরিফুর রহমান(২০১৫), ডঃ মিজানুর রহমান(২০১৬, ২০১৭), হিরন চৌধরী(২০১৮,২০২৪), এন্থনী গোমেজ(২০২০,২০২১), সামছুদ্দীন মাহমুদ(২০২২), ইশরাত সুলতানা মিতা(২০২৩), শরাফত হোসেন বাবু(২০২৬) উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ২৭টি সংগঠনের পক্ষ থেকে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *