হ-বাংলা নিউজ:
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে মামলা, হেনস্তা, হামলা ও ঘেরাওয়ের হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, গণমাধ্যমের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ এবং হামলা-হুমকি বৈষম্যবিরোধী চেতনার পরিপন্থি, যা দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে, বলেছে যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে এমন হামলা ও হুমকি দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য ক্ষতিকর। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ভিন্নমত এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ করলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
টিআইবি আরও দাবি করেছে, “সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তাহীনতা এবং ভয়াবহ হুমকির পরিবেশ সৃষ্টি হলে তা গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভকে ধ্বংস করবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।”
গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা এবং ঘেরাওয়ের হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “পতিত কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময় বাংলাদেশ মিডিয়া সূচকে ৪২ ধাপ নেমে গেছে। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত মানদণ্ডে বাংলাদেশ ক্রমাগতভাবে অবনতি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বর্তমানে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে হামলা, কুৎসা রটনা এবং ঘেরাওয়ের মতো আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ বা নিজেদের প্রয়োজনে পরিচালনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা একেবারেই অশনিসংকেত।”
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “গণমাধ্যমের ওপর এই ধরনের আঘাত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও আদর্শের জন্য মোটেও সুবিধাজনক নয়। যেসব আক্রমণ এবং মামলা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে করা হচ্ছে, তা শুধুমাত্র কর্তৃত্ববাদের পরিচায়ক। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি এই আঘাত ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর মুক্তচিন্তা ও বৈষম্যবিরোধী চেতনার পরিপন্থি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “টিআইবি বিশ্বাস করে, গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত, তবে কোনো সাংবাদিককে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে হয়রানি করা এবং অবৈধভাবে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক অবিলম্বে গণমাধ্যমের জন্য নিরাপদ এবং নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “অন্যথায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধুই তাত্ত্বিক কথা হয়ে থাকবে।”
তিনি আরো বলেন, “যে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিচারিক অবস্থা বা অপরাধী হওয়ার প্রমাণ না থাকলে, তাকে হয়রানি বা শাস্তি দেওয়া কখনোই উচিত নয়। পতিত সরকারের ‘দোসর’ অভিযোগে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চালানো ‘উইচ হান্টিং’ এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
